যোগ সাধনার সর্বোচ্চ স্তর: আসন নয়, নিজের ভেতর স্থির হওয়া
চীনে নতুন আসা বাংলাদেশি ছাত্রছাত্রীদের জীবনে চাপের তালিকা বেশ লম্বা—ক্লাস, ল্যাব, ভাষার ঝামেলা, নতুন শহরে বাসা খোঁজা, রান্না, পরিবারের সঙ্গে সময়ের পার্থক্য, আর উইচ্যাটে একের পর এক মেসেজ। শাংহাই হোক, চাংশা হোক, উহান বা গুয়াংজু—ব্যস্ততার রং আলাদা, কিন্তু মাথার ভেতরের ভিড়টা প্রায় একই রকম। তখন অনেকেই ইউটিউব বা উইচ্যাট গ্রুপে দেখে যোগব্যায়াম শুরু করেন। কয়েক দিন পর স্বাভাবিক প্রশ্ন আসে: যোগ সাধনার সর্বোচ্চ স্তর কোনটি?
ছোট উত্তরটি হলো: প্রাচীন যোগদর্শনে সর্বোচ্চ স্তর হিসেবে সাধারণত সমাধিকে ধরা হয়। তবে এটাকে কোনো জাদুকরি ট্রফি, চোখ বন্ধ করলেই পাওয়া “সুপারপাওয়ার”, বা কঠিন ভঙ্গিতে শরীর মোচড়ানোর পুরস্কার ভাবলে গোলমাল হবে। সমাধি বলতে এমন এক গভীর একাগ্র ও স্থিত চেতনার কথা বলা হয়, যেখানে মন বারবার বাইরের টানাপোড়েনে ছুটে বেড়ায় না। সহজ বাংলায় বললে, নিজের কাজ, শরীর, শ্বাস আর মূল্যবোধের সঙ্গে এমনভাবে উপস্থিত থাকা—যেখানে ভেতরে অকারণ হইচই কমে আসে।
এখানে একটা বাস্তব কথা আগে বলে রাখা ভালো: যোগ মানে শুধু ম্যাট, লেগিংস আর ইনস্টাগ্রাম-ফ্রেন্ডলি ভঙ্গি নয়। অনেকের জন্য যোগ শুরু হয় ঘুম ঠিক করার চেষ্টা থেকে; কারও জন্য পরীক্ষার ভয় সামলানো; কারও জন্য দীর্ঘ সময় স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকার কারণে ঘাড়-পিঠের অস্বস্তি কমানো। তাই “সর্বোচ্চ স্তর” জানতে চাওয়া দোষের নয়, বরং ভালো প্রশ্ন। কারণ প্রশ্নটি আমাদের আবার গোড়ায় ফিরিয়ে আনে—আমি যোগ করছি কেন?
উইচ্যাট এখন পড়াশোনা, কমিউনিটি, ক্লাব ও দৈনন্দিন যোগাযোগের বড় জায়গা। প্রযুক্তির খবরেও দেখা যাচ্ছে, উইচ্যাটের ভিশন টিম টেক্সট, ছবি ও ভিডিও মিলিয়ে খোঁজা ও মিল নির্ণয়ের জন্য WeMM-Embedding নামের মডেল উন্মুক্ত করেছে; তাদের তথ্য অনুযায়ী এটি WeChat Channels, Official Accounts, Moments এবং ই-কমার্স সেবায় ব্যবহৃত হচ্ছে [TechNode, 2026-08-27]। সুবিধা বাড়ছে, সন্দেহ নেই। কিন্তু সুবিধার পাহাড়েও মনোযোগের গর্ত থাকে। যোগের কথা তাই আজ আরও প্রাসঙ্গিক: প্রযুক্তি ব্যবহার করব, কিন্তু প্রযুক্তির হাতে নিজের মনটা তুলে দেব না।
অষ্টাঙ্গ যোগের সিঁড়ি বুঝলে সমাধিও মাটির কাছাকাছি লাগে
যোগদর্শনে বহুল আলোচিত অষ্টাঙ্গ যোগের আটটি ধাপকে সিঁড়ির মতো ভাবা যায়। এগুলো সব সময় কঠোরভাবে একটার পর একটা শেষ করে পরেরটিতে যাওয়ার পরীক্ষা নয়; বরং জীবনের বিভিন্ন দিককে একসঙ্গে গুছিয়ে আনার মানচিত্র। প্রবাসী শিক্ষার্থীর জীবনে এই মানচিত্র বেশ কাজের, কারণ এখানে “মন ভালো রাখা” কথাটা খুব সহজে বলা যায়, কিন্তু নিয়মিত করা কঠিন।
অষ্টাঙ্গ যোগের আটটি অঙ্গ হলো:
- যম: অন্যের প্রতি আচরণে সংযম ও নৈতিকতা—অহিংসা, সত্যবাদিতা, অপ্রয়োজনীয় দখল না করা ইত্যাদি।
- নিয়ম: নিজের অভ্যাস গুছিয়ে রাখা—পরিচ্ছন্নতা, সন্তোষ, শৃঙ্খলা, আত্মপর্যবেক্ষণ।
- আসন: শরীরকে স্থির ও আরামদায়ক রাখার অনুশীলন।
- প্রাণায়াম: শ্বাসের ছন্দ ও সচেতনতার চর্চা।
- প্রত্যাহার: ইন্দ্রিয়ের টান থেকে সাময়িকভাবে মন ফিরিয়ে আনা।
- ধারণা: একটি বিষয়, শব্দ, শ্বাস বা কাজে মন স্থির রাখা।
- ধ্যান: সেই স্থির মনোযোগের ধারাবাহিক প্রবাহ।
- সমাধি: গভীর একাত্মতা বা নিবিষ্টতার অবস্থা; যোগ সাধনার সর্বোচ্চ স্তর হিসেবে যাকে উল্লেখ করা হয়।
খেয়াল করুন, এখানে আসন মাত্র তৃতীয় ধাপ। অর্থাৎ মাথার ওপর পা তুলে ছবি তুলতে পারলেই কেউ “উন্নত যোগী” হয়ে যান না। সত্যি বলতে, কেউ যদি প্রতিদিন সময়মতো ঘুমায়, রাগের মাথায় মেসেজ না পাঠায়, রুমমেটের সঙ্গে সম্মান রেখে কথা বলে, পড়ার সময় ফোন দূরে রেখে ২০ মিনিট মন বসাতে পারে—সে যোগের খুব বাস্তব অনুশীলনই করছে। ব্যাপারটা এতই সোজা, আবার এতই কঠিন।
সমাধি কি ঘোরের মধ্যে চলে যাওয়া?
না, সমাধিকে অচেতনতা, ঘুম, কল্পনার জগৎ, বা বাস্তবতা এড়িয়ে যাওয়ার উপায় বলা ঠিক নয়। ধ্যানের সময় কারও মন শান্ত হতে পারে, আবেগ উঠতে পারে, শরীর হালকা লাগতে পারে—এসব অভিজ্ঞতা ব্যক্তিভেদে বদলায়। কিন্তু এসব অনুভূতিই চূড়ান্ত গন্তব্য নয়। সমাধির ধারণার কেন্দ্রে আছে স্বচ্ছতা, স্থিরতা এবং গভীর উপস্থিতি।
ধরুন, আপনি রাত ১১টায় পরীক্ষার প্রেজেন্টেশন বানাচ্ছেন। ফোনে গ্রুপ নোটিফিকেশন, বাড়ি থেকে কল, সহপাঠীর ফাইল, আরও দশটা রিল—সব একসঙ্গে আসছে। আপনি যদি প্রয়োজনীয় কাজটি বেছে নিয়ে, শ্বাস স্বাভাবিক রেখে, ৩০ মিনিট টানা কাজ শেষ করতে পারেন, সেটি সমাধি নয় বটে; কিন্তু ধারণা ও ধ্যানের অনুশীলনের খুব বাস্তব দরজা। বড় কথা হলো, এখানে নাটক কম, কাজ বেশি।
উইচ্যাটে সাম্প্রতিক একটি ছবি-পাঠানোর ফিচার নিয়েও দেখা গেছে—তিন বা তার বেশি ছবি পাঠালে “একত্রে দেখানো” বেছে নিয়ে সেগুলো স্লাইড করা যায় এমন কার্ডে সাজানো যায়; ব্যবহারকারীরা এটিকে পোশাক সাজানোর অনলাইন টুল হিসেবেও ব্যবহার করছেন [快科技, 2026-08-28]। এতে একটা ছোট শিক্ষা আছে: টুল নিজে ভালো বা খারাপ নয়, ব্যবহারটাই আসল। একইভাবে উইচ্যাটে যোগ শেখার ভিডিও, স্থানীয় স্টুডিওর তথ্য বা মেডিটেশন গ্রুপ পাওয়া যেতে পারে; কিন্তু দশটা গ্রুপে ঢুকে সারাদিন স্ক্রল করলে শান্তি তো দূরের কথা, মাথাই আরও ভারী হবে।
বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর জন্য যোগের ব্যবহারিক রুটিন
সবাইকে ভোর ৪টায় উঠে দুই ঘণ্টা ধ্যান করতে হবে—এমন কোনো নিয়ম নেই। ক্লাস, পার্ট-টাইম কাজ, নামাজ, খাবার, রুম শেয়ার—বাস্তব জীবন বিবেচনায় নিয়ে রুটিন বানান। “কম কিন্তু নিয়মিত” এখানে সবচেয়ে শক্তিশালী কৌশল।
একটি সহজ ২১ মিনিটের রুটিন হতে পারে:
২ মিনিট—পরিবেশ গুছিয়ে নিন
ফোন সাইলেন্টে রাখুন, জরুরি কলের ব্যতিক্রম ঠিক করুন, বসার জায়গা পরিষ্কার করুন। বিছানায় হেলান দিয়ে না বসাই ভালো।৫ মিনিট—হালকা শরীরচর্চা
ঘাড়, কাঁধ, কবজি, কোমর ও পায়ের হালকা নড়াচড়া করুন। ব্যথা থাকলে জোর করবেন না। কোনো ভঙ্গিতে তীক্ষ্ণ ব্যথা, মাথা ঘোরা বা শ্বাসকষ্ট হলে সঙ্গে সঙ্গে থামুন।৫ মিনিট—স্বাভাবিক শ্বাস দেখা
শ্বাস জোর করে টানবেন না, আটকে রাখবেন না। শুধু নাক দিয়ে শ্বাস আসছে-যাচ্ছে—এটা খেয়াল করুন। শ্বাস গুনতে চাইলে ১ থেকে ১০ পর্যন্ত গুনে আবার ১-এ ফিরুন।৭ মিনিট—একটিমাত্র মনোযোগের জায়গা
শ্বাস, একটি সংক্ষিপ্ত প্রার্থনা, কৃতজ্ঞতার বাক্য, অথবা মৃদু ধ্যানের শব্দ—যেকোনো একটি বেছে নিন। মন চলে গেলে নিজেকে বকা নয়; শান্তভাবে ফিরিয়ে আনুন।২ মিনিট—লিখে রাখুন
আজ মন কেমন ছিল? কী নিয়ে বারবার চিন্তা এসেছে? আগামীকাল কোন সময়ে অনুশীলন করবেন? দুই লাইনের নোট যথেষ্ট।
এতে সমাধি “পাওয়া” যাবে—এমন প্রতিশ্রুতি কেউ সৎভাবে দিতে পারে না। কিন্তু মনোযোগ, ঘুম, আবেগ সামলানো এবং নিজের সঙ্গে সংযোগের অভ্যাস তৈরি হবে। এটাই আসল পুঁজি।
গুরুর নাম দেখেই ভরসা নয়: যাচাই করুন
অনলাইনে যোগ বা মেডিটেশন শেখানোর লোকের অভাব নেই। কেউ খুব সুন্দর কথা বলেন, কেউ খুব চমকপ্রদ ফলের দাবি করেন। এখানেই একটু রাস্তার বুদ্ধি লাগবে। “সাত দিনে কুণ্ডলিনী জাগ্রত”, “সব রোগের নিশ্চয়তা”, “ওষুধ বন্ধ করুন”—এই ধরনের দাবি দেখলে ব্রেক চাপুন। স্বাস্থ্য বা মানসিক চাপের জটিল অবস্থা থাকলে প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যপেশাজীবীর পরামর্শ দরকার হতে পারে; যোগ তার বিকল্প নয়।
প্রশিক্ষক বা গ্রুপ বাছাইয়ের সময় দেখুন:
- শিক্ষক তাঁর প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞতা পরিষ্কারভাবে বলেন কি না;
- শারীরিক সীমাবদ্ধতার বিকল্প ভঙ্গি দেন কি না;
- চিকিৎসা নিয়ে বড় বড় প্রতিশ্রুতি দেন কি না;
- ব্যক্তিগত ছবি, পরিচয়পত্র বা অর্থ চাওয়ার ধরন স্বচ্ছ কি না;
- গ্রুপের পরিবেশ সম্মানজনক ও চাপমুক্ত কি না।
ডিজিটাল নিরাপত্তাকেও হালকা নিলে চলবে না। ২০২৬ সালের ২৮ আগস্টের একটি প্রতিবেদনে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান AI যুগে সাইবার প্রতিরক্ষা জোরদারের কথা বলেছে—মূল বার্তাটা সোজা: প্রযুক্তির সুবিধা বাড়লে নিরাপত্তার অভ্যাসও বাড়াতে হয় [IT之家, 2026-08-28]। যোগ গ্রুপে যোগ দিলেও এই নিয়ম প্রযোজ্য। অচেনা লিংক, “ফি পাঠান, তারপর গোপন কোর্স” ধরনের মেসেজ, বা ব্যক্তিগত তথ্য চাওয়া—এসবের ক্ষেত্রে যাচাই ছাড়া এক পা নয়।
🙋 সচরাচর জিজ্ঞাসা
প্রশ্ন ১: যোগ সাধনার সর্বোচ্চ স্তর কি সত্যিই সমাধি?
উত্তর: প্রাচীন অষ্টাঙ্গ যোগের কাঠামোয় সমাধিকেই সর্বোচ্চ অঙ্গ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে এটি কোনো সার্টিফিকেট বা একদিনের অর্জন নয়। বুঝতে চাইলে এই পথ ধরে এগোন:
- আগে নিয়মিত ঘুম, খাবার ও দৈনন্দিন আচরণ গুছান;
- প্রতিদিন ১০–২০ মিনিট শ্বাস পর্যবেক্ষণ ও স্থির বসার চর্চা করুন;
- মনোযোগ ভেঙে গেলে সেটাকে ব্যর্থতা না ধরে ফিরে আসার অনুশীলন করুন;
- অভিজ্ঞতাকে অতিরঞ্জিত না করে দীর্ঘমেয়াদি স্থিরতা, সহমর্মিতা ও সচেতনতা দেখুন।
কোনো গুরুতর মানসিক চাপ, আতঙ্ক, দীর্ঘ অনিদ্রা বা শারীরিক অসুস্থতা থাকলে স্থানীয় হাসপাতাল বা নিবন্ধিত স্বাস্থ্যপেশাজীবীর অফিসিয়াল সেবাকেন্দ্রে যোগাযোগ করাই নিরাপদ পথ।
প্রশ্ন ২: চীনে ছাত্রজীবনে প্রতিদিন কতক্ষণ যোগ বা ধ্যান করা বাস্তবসম্মত?
উত্তর: শুরুতে ১৫–২১ মিনিটই যথেষ্ট। সময়ের চেয়ে ধারাবাহিকতা বেশি জরুরি। একটি সহজ সাপ্তাহিক রোডম্যাপ:
- সোম–বৃহস্পতি: ১৫ মিনিট—হালকা নড়াচড়া, শ্বাস, নীরব বসা;
- শুক্রবার: ১০ মিনিট—শুধু শরীর ও মনের অবস্থা লিখে দেখা;
- শনিবার: ২০–৩০ মিনিট—হালকা যোগাসন ও ধ্যান;
- রবিবার: বিশ্রাম অথবা হাঁটার সময় সচেতন শ্বাসের অনুশীলন।
ক্লাসের আগে না পারলে ঘুমানোর অন্তত ৩০ মিনিট আগে করুন। বিছানায় শুয়ে স্ক্রল করতে করতে “ধ্যান” করার চেষ্টা করলে বেশিরভাগ সময় ফল হবে উল্টো—সোজা কথা, ফোন জিতবে।
প্রশ্ন ৩: উইচ্যাট গ্রুপে যোগ বা মেডিটেশন ক্লাস খুঁজলে কীভাবে নিরাপদ থাকব?
উত্তর: তিন ধাপের যাচাই রাখুন—দেখুন, জিজ্ঞেস করুন, তারপর যোগ দিন।
- গ্রুপ বা অ্যাকাউন্টের পুরোনো পোস্ট, সদস্যদের স্বাভাবিক আলোচনা এবং ক্লাসের ঠিকানা দেখুন;
- ফি, সময়, প্রশিক্ষকের পরিচিতি ও বাতিলের নিয়ম লিখিতভাবে জিজ্ঞেস করুন;
- প্রথমে প্রকাশ্য স্থানে বা অনলাইন পরিচিতিমূলক সেশনে অংশ নিন;
- পাসওয়ার্ড, ব্যাংক তথ্য, পাসপোর্টের ছবি বা অপ্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত নথি পাঠাবেন না;
- সন্দেহজনক লিংক বা চাপ দিয়ে টাকা চাওয়া হলে উইচ্যাটের রিপোর্ট ফাংশন ব্যবহার করুন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী সহায়তা ডেস্কে জানান।
বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক ক্লাব হলে তাদের অফিসিয়াল নোটিশ বোর্ড, ছাত্রবিষয়ক দপ্তর বা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী অফিসের ঘোষণার সঙ্গে মিলিয়ে নিন। গ্রুপে হাজার সদস্য থাকলেই সেটি নির্ভরযোগ্য—এই হিসাবটা কিন্তু চলে না।
প্রশ্ন ৪: আমি মুসলিম; যোগের শ্বাস-প্রশ্বাস বা স্ট্রেচিং কি করতে পারি?
উত্তর: ব্যক্তিগত ধর্মীয় বিশ্বাস ও স্বাচ্ছন্দ্যকে সম্মান করেই সিদ্ধান্ত নিন। অনেকেই যোগের শরীরচর্চা, শ্বাস পর্যবেক্ষণ ও মনোযোগের অংশকে স্বাস্থ্যকর ব্যায়াম হিসেবে করেন; আবার কেউ নির্দিষ্ট মন্ত্র বা আচার এড়িয়ে চলেন। বাস্তব পদক্ষেপ হতে পারে:
- শিক্ষককে আগে বলুন আপনি কোন ধরনের অনুশীলনে স্বচ্ছন্দ;
- শারীরিক স্ট্রেচিং ও নিরপেক্ষ শ্বাসচর্চা বেছে নিন;
- নিজের পরিচিত প্রার্থনা, কৃতজ্ঞতা বা নীরব আত্মপর্যবেক্ষণ ব্যবহার করুন;
- ধর্মীয় প্রশ্নে নির্ভরযোগ্য আলেম বা নিজ কমিউনিটির জ্ঞানী ব্যক্তির পরামর্শ নিন।
নিজের বিশ্বাস ধরে রেখে স্বাস্থ্যচর্চা করা সম্ভব—এখানে জোরজবরদস্তির জায়গা নেই।
শেষ কথা: উঁচু স্তর মানে জীবনের মাটি ছাড়ানো নয়
যোগ সাধনার সর্বোচ্চ স্তর হিসেবে সমাধির কথা শুনলে বিষয়টি হয়তো দূরের পাহাড় মনে হয়। কিন্তু তার দিকে যাওয়ার রাস্তা শুরু হয় খুব সাধারণ জায়গা থেকে: রাগের সময়ে একটু থামা, শ্বাসটা খেয়াল করা, শরীরের সীমা মানা, স্ক্রিনের টান থেকে কয়েক মিনিট বেরিয়ে আসা, আর নিজের সঙ্গে সৎ থাকা। এই ছোট কাজগুলো চকচকে নয়, ভাইরালও নয়—কিন্তু ভিত শক্ত করে।
চীনে থাকা বাংলাদেশি শিক্ষার্থী, কর্মজীবী বা নতুন আগন্তুক—সবার জন্য ব্যবহারিক চেকলিস্টটি রেখে দিই:
- প্রতিদিন একই সময়ে অন্তত ১৫ মিনিটের শান্ত অনুশীলন;
- কঠিন আসনের বদলে নিরাপদ ও আরামদায়ক নড়াচড়া;
- উইচ্যাট গ্রুপ বা প্রশিক্ষকের পরিচয় যাচাই;
- শারীরিক বা মানসিক জটিলতায় অফিসিয়াল স্বাস্থ্যসেবার সাহায্য;
- ফলের পেছনে ছোটার আগে নিয়মিত হওয়ার সিদ্ধান্ত।
সমাধি নিয়ে বড় বড় কথা বলা সহজ। কিন্তু ব্যস্ত দিনের মাঝখানে শান্তভাবে এক কাপ চা খাওয়া, বন্ধুর কথা মন দিয়ে শোনা, আর নিজের কাজটি ঠিকমতো শেষ করা—এসবও কম সাধনা নয়।
📣 গ্রুপে কীভাবে যোগ দেবেন
চীনে জীবন, পড়াশোনা, কাজ, ভাষা কিংবা উইচ্যাট ব্যবহার নিয়ে একা একা ধাক্কা খাওয়ার দরকার নেই। XunYouGu কমিউনিটিতে বাংলাদেশি বন্ধু ও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা বাস্তব অভিজ্ঞতা, স্থানীয় তথ্য এবং দৈনন্দিন সমাধান ভাগাভাগি করেন। কেউ বাসা খোঁজার টিপস দেয়, কেউ ক্লাসের রিসোর্স, কেউ আবার নতুন শহরে ভালো কমিউনিটি খুঁজে পেতে সাহায্য করে।
যোগ দিতে উইচ্যাটে “xunyougu” লিখে সার্চ করুন, অফিসিয়াল অ্যাকাউন্টটি ফলো করুন, তারপর সহকারীর উইচ্যাট যোগ করুন। প্রয়োজন ও শহরের তথ্য জানালে উপযুক্ত গ্রুপে আমন্ত্রণ পাওয়ার পথ দেখানো হবে। ভদ্রতা রাখবেন, যাচাই করে তথ্য শেয়ার করবেন—তাহলেই গ্রুপটা সবার জন্য কাজের জায়গা হয়ে উঠবে।
📚 আরও পড়তে পারেন
🔸 WeChat টিমের বহুমাধ্যমভিত্তিক সার্চ ও রেকমেন্ডেশন মডেল উন্মুক্তকরণ
🗞️ উৎস: TechNode – 📅 ২৭ আগস্ট ২০২৬
🔗 সম্পূর্ণ প্রতিবেদন পড়ুন
🔸 WeChat-এর ভাঁজ করে ছবি পাঠানোর ফিচার অনলাইনে জনপ্রিয়
🗞️ উৎস: 快科技 – 📅 ২৮ আগস্ট ২০২৬
🔗 সম্পূর্ণ প্রতিবেদন পড়ুন
🔸 AI যুগে সাইবার নিরাপত্তা জোরদারের আহ্বান নিয়ে প্রতিবেদন
🗞️ উৎস: IT之家 – 📅 ২৮ আগস্ট ২০২৬
🔗 সম্পূর্ণ প্রতিবেদন পড়ুন
📌 দায়মুক্তি
এই লেখাটি প্রকাশ্য তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি এবং AI সহকারীর সাহায্যে সম্পাদিত। এটি কোনো চিকিৎসা, আইনগত, বিনিয়োগ, অভিবাসন বা বিদেশে পড়াশোনাবিষয়ক পরামর্শ নয়। যোগ অনুশীলনের আগে নিজের শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করুন এবং প্রয়োজন হলে নিবন্ধিত স্বাস্থ্যপেশাজীবীর পরামর্শ নিন। নীতিমালা বা আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে চূড়ান্ত নিশ্চিতকরণের জন্য সংশ্লিষ্ট অফিসিয়াল চ্যানেল দেখুন। কোনো অনুপযুক্ত তথ্য থেকে থাকলে দায় AI-এরই 😅—সংশোধনের জন্য আমাদের জানাবেন।

